Friday, April 28, 2023

স্কুল নাম্বার -৩ (আমার স্কুল আমার অহংকার)

 স্কুলের নাম : মল্লিকপুর মডেল সপ্রাবি,

সদর সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।
অনেক কষ্টে, কত কাঠ খর পুড়িয়ে হারুন ভাই(শিক্ষক নেতা), ( টি, ই,ও)মোহন মিয়া স্যারের সহায়তা নিয়ে জেলা সদরের মডেলে আসলাম। হারুন ভাই বললেন সকালে মডেল স্কুলে যোগদান করে চাবি দিয়ে আসেন আগের বিদ্যালয়ে। সহকর্মীরা তো অবাক! একটু বললেন না আগে আমাদেরকে?
যাই হোক, এই স্কুল একেবারে সিলেট বাসস্ট্যান্ডে এর সাথেই। কাছাকাছি সব অফিস, জেলা কৃষি অফিস তো একবারে দেয়াল ঘেষা। URC ত ভিতরেই। স্কুলে অনেক কিছুই আছে বাট ভালোবাসা আর একটু যত্ন এর অভাব। আকলিমা ছিল সেই যত্ন করার একজন, আমি তাকে গিয়ে পেয়েছি।
এবার আসি আমার সহকর্মী ছিল কারা (দত্তা চক্রবর্তী, আলপনা পুরকায়স্থ,সুফিয়া বেগম, নাজমা বেগম ১, নাজমা বেগম ২ , সুতপা ভট্টাচার্য, ফেরদৌস আরা ইয়াসমিন , সম্পা তালুকদার, রোখসানা ইয়াসমিন, শিরিন আক্তার)।
স্কুলে ভবন সংখ্যা ৪ কাজেই সাজানো কোন ব্যাপার না, বিরাট হল রুম যা অন্য কোন স্কুলে ছিল না। বাথরুম ও পর্যাপ্ত, লাইব্রেরি আছে বটে সব করুন।
যেদিন যোগদান করি লেগে গেলাম সব পরিচ্ছন্ন করার কাজে। বাড়ি গিয়ে পরদিন এসে দেখি স্কুলে চুরি হয়ে গেছে, খাতা পত্র সব লন্ডভন্ড। কি আর করা থানায় জি ডি। পুলিশ দেখেই ভয় পাই তারপর আমি কি না এই বিপদে! সহকারী শিক্ষকদের টেবিল ছিল না ভালো এই গুলো বানালাম, মনিটরিং বোর্ড,অনার বোর্ড । লাইব্রেরি রুমে যাওয়ার উপায় নেই, যে শিক্ষক লাইব্রেরি নিয়ে ট্রেনিং পেয়েছেন ডেপুটেশন এ পিটিআই এর এক্সপেরিমেন্টাল স্কুলে। কাকে কি বলব সোকেচের ভিতরে বইয়ের সাথে চিকার বিট? দুতলায় ট্রান্সপার করলাম লাইব্রেরি, শিশু শ্রেণি। তখন শিশু শ্রেণির জন্য ছিল সিসিমপুর এর কার্যক্রম যা শিশু একাডেমির পক্ষ থেকে পরিচালিত হত। মনে পড়ে আমি ক্লাস নিতে চাইলে আপার সহকর্মীগণ বলতেন আপা আপনি ক্লাস নিবেন না, আপনাকে সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াতে হয়। মহিমা নামে একজন ছাত্রী ছিল সে এখনো ফোন করে, মনে হয় SUST এ পড়ে। তবে এই স্কুলের ছাত্ররা ছিল নাচে, গানে খুব পারদর্শী।
স্কুলের মাঠ অনেক নিচু ছিল, পানি লেগে থাকত, প্রায় ৯ হাজার ফুট বালি ভরাট করাই ফ্রিতে, একজন এল জি ডির ইঞ্জিনিয়ার এর মাধ্যমে। স্কুলের জায়গা হল ৯৬ শতক, এত বড় স্কুল! আমার চোখে সেরা, সুন্দর ও খুব প্রিয় ।
নিচ তলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আলামিনের সুবাদে আর মোহন স্যারের এর সহায়তায় পেলাম কম্পিউটার ল্যাব, প্রিন্টার, টি ভি,খেলনাসহ অনেক কিছু। লাল গালিচার কার্পেট ও ছিল একটা বেসরকারি এন জিও থেকে পাওয়া । রুমে গেলে মন ভরে যেত। শাহলান স্যার ছিলেন URC ইন্সট্রাকটর। স্যার আমাকে অনেক পছন্দ করতেন।
ডি পি ও ছিলেন নার্গিস সাজেদা সুলতানা ম্যাডাম, পরবর্তীতে কুমিল্লা বদলি হয়ে গিয়েছিলেন। উনার সাথে অনেক স্মৃতি, ম্যাডাম কে নিয়ে প্রায়ই যে কোন ট্রেনিং আর কাজে সিলেট যেতাম, আমি ছিলাম ম্যাডামের প্রিয়ভাজন। তখন তিনি পিটিআই এ সুপারের দায়িত্বও পালন করেছেন। পরে অবশ্য অধিদপ্তরে চলে যান।
স্কুল সাজানো হল মনের মত করে, ট্রেনিজরা এসেও অনেক খুশি । তারা বলে আমরা পিটিআই প্রেক্টিস ট্রেনিং করতে গেলে অন্য স্কুলে বসতে দেয় না, আর আপনি আমাদের কত যত্ন নেন। তখন দু শিপ্ট এর প্রাক্টিস টিচিং চলত। URC তে বিষয়ভিত্তিক ট্রেনিং এ আসলে ও অনেক শিক্ষক খেত আমাদের শিশু শ্রেনীর কক্ষে। বাথরুমের বাতিক আমার আগে থেকেই আলাদা জুতা পরতে হত সবাইকেই।
ব্রেইল ট্রেনিং করে ঢাকা সি ডি টি থেকে আলামিনকে পড়াই। শুরু হল প্রথম ICT ট্রেনিং সব মডেলে। দূর্গা পুজোর ছুটি, কেউ যাবে না ICT ট্রেনিং এ, কি আর করা আমিই গেলাম প্রথম ব্যাচে সিলেট পিটিআই। লেপ্টপ, মাল্টিমিডিয়া ও পেলাম। ট্রেনিং ও অনেক ভালো করেছি কারণ ঘরে আগেই লেপ্টপ ছিল।
English in Action এর ট্রেনিং করি সিলেট সুপ্রিম হোটেলে থেকে। রেহনোমা কুমকুম ম্যাডাম এর একটা ক্লাস আজ ও আমার মনে ধরে আছে কি যে ফেন্টাস্টিক কি বলব। বদলি জনিত কারণে নতুন উপজেলায় আর EIA পাইনি।
স্কুলের বেশির ভাগ ছাত্র ছিল পুলিশ লাইন আর বিডিয়ারদের বাচ্চা। একেবারে একদল আসত আবার চলে যেত। স্থানীয় ছাত্র খুব কম ছিল। ২৬ শে মার্চ ও ১৬ ই ডিসেম্বর এর কুচকাওয়াজের জন্য থানায় যেতে হত মিটিং করার জন্য। যেখানে পুলিশ ফোবিয়া আমার। বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য ADC শিক্ষার মিটিং,সমাপনী পরিক্ষার সেন্টার, আর কত নিয়োগ পরিক্ষার সেন্টার,র‍্যালি, অনেক অনেক বাড়তি কাজ??? কারণ মডেলের প্রধান শিক্ষক অনেক কমিটির সদস্য, কিন্তু আমি হলাম স্কুল পাসনেট আর এখন হল উল্টো।
হঠাৎ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক প্রতিযোগিতার জন্য এর ডাক পেলাম উপজেলা থেকে, তখন জোর করে দেয়া হত, কেউ জানত না যে পরবর্তীতে বিদেশ নেয়া হবে। আমি জেলা আর বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পর্যন্ত গিয়েছিলাম। ভাইবা বোর্ড থেকে বলা হলো মাত্র এইকদিন চাকুরী আরো সময় আছে? যাক জাতীয় পর্যায়ে এসে বিদায়। কিন্তু বিভাগের শ্রেষ্ঠ হয়ে প্রধান শিক্ষকদের জন্য লিডারশীপ ম্যানুয়েল তৈরির কাজে অধিদপ্তরে কয়েকবার গিয়েছিলাম। তখন প্রিয় দেলোয়ার হোসেন স্যার (পরিচালক প্রশাসন )এর সাথে পরিচয় ও একসাথে গ্রুপে কাজ করি।
এই স্কুলের সুবাদে থাইল্যান্ড সফর করি!
এত গেলো প্রাপ্তির গল্প এবার তিরস্কারের গল্প শুনুন।
আমার ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর সুজাতা রানী মিথ্যা কথা বলে, বারবার অনুরোধ করে থ্রি পাসের সার্টিফিকেট নিয়ে নেয় তার মেয়ের জন্য। যা ছিল আমার জীবনের চরম ভুল। সুজাতা মেয়রের কাছে দেখাল আমি মডেল স্কুল থেকে সার্টিফিকেট আনছি। মেয়র কে সব কাউন্সিলর অনাস্থা দিতে চাচ্ছিল তখন, যার প্রতিশোধ নিতে আমাকে ধরে। ডি পিও স্যার নুরুল ইসলাম তদন্ত করিয়ে আমাকে মিথ্যা কথা বলতে বলেন, আমি সই দেইনি জাল সই করেছে, কিন্তু আমি বলিনি। সংবাদ সম্মেলনসহ আরও কত কি হয়?
এদিকে ডি পিও সার ২ টা ইনক্রিমেন্ট চিরদিনের জন্য কেটে দেন। আবার ডি পিও স্যারই একজন এ টিও স্যারকে ডেকে বলেন, রায়হানাকে বলেন ঢাকা থেকে ফোন করাতে। আমি দেলোয়ার স্যার এর সাথে কথা বলি ও স্যার অনেক সহায়তা করেন। ডি পিও স্যার আগের কাগজ ছিড়ে আরেক অর্ডার করেন যে, একবছর একটা ইনক্রিমেন্ট হেল্ডাপ রাখেন। এদিকে হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ স্যার দ্রুত সার্ভিস বুকে এন্ট্রি করে ফেলেন,মনে হচ্ছিল টি ই ও স্যার গুরু দায়িত্ব সেরে ফেলেছেন।
কয়েকজন হেডটিচার পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে মেয়রের সাথে,যাদেরকে আমি মনে রেখেছি?? বিপদে এই জাতীয় শিক্ষকরা তামাসা দেখে ও ক্ষতি করে। কি আর করা ভাবলাম এখানকার মায়া ছাড়তে হবে, দরখাস্ত দিয়ে চুপিসারে সুনামগঞ্জ থেকে বিদায় নিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে।
আহমদ নুর কাউন্সিলর ভাই, এখন মল্লিকপুর কেমন আছে আপনারাই মূল্যায়ন করবেন। চার্য হেন্ড অভার করেছি জায়গা নেই লিখার কত শত জিনিস আলপনা পুরকায়স্থ (টুকু) দিদির কাছে? উল্লেখ যে টুকু দিদি সার্টিফিকেট না দিতে বারবার নিষেধ করেছেন আমাকে। আমি ভেবেছি থ্রি পাসের সার্টিফিকেট দিয়ে কি করবে স্কুলে ভর্তি ছাড়া???
এই আমার বদলে যাওয়ার আর বদলে দেয়ার গল্প। ( ৪ নাম্বার নিয়ে আসছি)
All reactions:
You, Rumana Afroze, Shamsun Nahar and 48 others
36
1
Like
Comment
Share
View more comments

Alpana Purkaystha
আপা,ইশ্বর আপনাকে অনেক মেধা দিয়েছেন।আপনাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পেরেছে কি?যে বা যারা আপনার পিছনে লেগেছিল তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে।আপনার সরলতার সুযোগ নিয়ে সার্টিফিকেটা নিয়েছে।যারা এর পিছনে ছিল

স্কুল নাম্বার -২ ( আমার স্কুল আমার অহংকার)

 স্কুলের নাম : বুড়িস্থল সপ্রাবি

ইউনিয়ন : মোল্লাপাড়া
সুনামগঞ্জ সদর, সুনামগঞ্জ
স্কুলটি ছিল রাস্তার পাশে। এই স্কুলে দীর্ঘদিন চাকরি করেছি। আমার সহকর্মীগণ ছিলেন, (সাথী রানী চক্রবর্তী, রওশন আরা মিলন, ফেরদৌসি বেগম , পারভীন আক্তার, নাইমা আক্তার জনি )এই স্কুল জেলা শহর থেকে খুব কাছেই , তাই যাওয়া আসার সমস্যা নেই। মন দিয়ে কাজ শুরু করলাম। আমি কিন্তু সবসময় ক্লাস নিতাম স্কুলে, যাতে ছাত্ররা আমার টাচে থাকে। কিন্তু নাম মনে রাখতে পারতাম না, এটা আমার দুর্বলতা।
যাক, এবার আসি স্কুলের পরিবর্তনের কথা নিয়ে । একটা স্কুলের পরিবর্তন করতেও সময় লাগে। তখন কিন্তু স্লিপ গ্রান্ড ছিল না। নিজের আনুষঙ্গিক খরচ সরকারি ভাবে কত পেতাম আর পরিক্ষার ফি যত উদ্বৃত্ত হত তা সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করে কাজ করেছি। বাকি কিছু করতে হত তা স্থানীয় অনুদান নিয়েই ? এই স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুত বাবু বলতে পারবেন কেমন স্কুল তিনি পেয়েছেন । আর যারা স্কুল ভিজট করেছেন, তারা বলতে পারবেন। কত আকর্ষণীয় ছিল সেই স্কুল। কনফারেন্স টেবিল, প্রধান শিক্ষক এর সেক্রেটারীয়েট টেবিল সহ, হোয়াইট বোর্ড,অনার বোর্ড, ফুল, প্লাস্টিকের চেয়ার, পতাকার স্টেন্ড এর পাশে দুটো ঝাউগাছ,স্কুলের পিছনে কত গাছ লাগিয়েছিলাম।
পি টি আই এর স্যার ও অন্য ভিজিটরগণ এসে স্কুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতেন। শহরের স্কুলে না এসেও আমার স্কুল ভিজিট করতেন।
এ ডি সি শিক্ষা থেকে শুরু করে সবার পদচারণা ছিলো এই বিদ্যালয়ে । একদিন জনাব (মমিনুল মউজদিন) হাছন রাজার প্রৌপুত্র। তখনকার পৌরসভার মেয়র আমার বিদ্যালয়ে হঠাৎ এসে হাজির। আমি স্কুলে ছিলাম না, স্কুলের কাজেই বাইরে, খবর পেয়ে ছুটে আসি। তারপর স্কুলের সব সাজানো দেখে সাথে সাথে কাকে যেন ফোন কল "অবা দেইখা যাও এইখানে এত সুন্দর একটা স্কুল আমি না আইলে ত জানতাইম না"। পরে তিনি সিডরের সময় এক্সিডেন্টে মারা যান,কিন্তু কথা গুলো মনে গেঁথে আছে।
এই স্কুলের কার্যক্রম এর উপর আমার নামে পত্রিকার প্রকাশনা আছে, যা এখানে দিব সংযুক্ত করে।
তখন ডিপিও স্যার ছিলেন দেবেশ চন্দ্র রায়, পরে স্যার আমাদের অধিদপ্তরে চলে যান। স্যার আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। একদিন ডি ডি স্যার সিলেট থেকে আসলে, তিনি ভালো গ্রামের স্কুল দেখাতে আমার স্কুলে নিয়ে যান। ডি ডি স্যার এর নাম সিরাজুর রহমান । তিনি ভিজিটের এক পর্যায়ে এসে আমার নিজের Home visit দেখতে চান, আমি দেখাই। তারপর প্রশ্ন হয়ত স্যার এর মনে? আমি কি বাড়ি গিয়ে করেছি, নাকি স্কুলে বসে করেছি? আমাকে বলেন তাহলে নিয়ে যান দেখি ? আমি বাড়িতে গিয়ে করেছি তাই আমার কোন ভয় ছিলো না। স্যার এর গাড়ী করে দেবেশ স্যার সহ গেলাম। সব ঠিক পেয়ে স্যার খুব খুশি হলেন।
আমি বুঝতাম না উপজেলা থেকে ইংরেজি বিষয় এর TOT শিক্ষক নিবেন । তাই TOT কি, এ টি ও বাবর আলী স্যার এর কাছে জানতে চাইলাম, এটা করলে কি হবে? স্যার জবাবে বললেন, যেহেতু আপনি প্রাইমারী স্কুলে কাজ করছেন তা হলে আপনার career Development হবে! যান এটাতে, শিক্ষক শিক্ষদের ট্রেনিং করাবে, এই প্রথম TOT শুরু। ব্রাহ্মণ্ বাড়িয়া পি,টি,আই থেকে করে গেলাম মুজিবুর রহমান স্যার, শামিম স্যার সহ আর ও অনেকে ছিলেন ট্রেইনার।
স্কুলের ৫ম শ্রেণির বাচ্চাদের, বাবার পথ অনুসরণ করে বাসায় আনতে শুরু করলাম, প্রায় রাতে রেখে বৃত্তির প্রস্তুতি। আল্লাহর রহমতে বৃত্তি পাওয়া শুরু হয়ে গেল, সেই পথ চলা, আসা অবধি চলতে লাগল। আহা কি আত্বতৃপ্তি!
এরই মধ্যে একদিন হঠাৎ বিকাল ৪টায় ডি পি ও অফিস থেকে ফোন আসল। মোবাইলে সত্য রঞ্জন ক্লার্ক। বাবু বললেন, কাকু এখনি অফিসে আস। তোমার বিদেশে একটা অফার আছে, শুনে কাউকে না বলে গিয়ে হাজির হলাম । জাপানে যাওয়ার জন্য তোমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ২০০৫ সালের কথা তখন প্রাইমারির শিক্ষক দেশের বাইরে যাবে কমই শুনেছি। ডি ডি স্যার নাকি আমার কথা বলেছেন। কত মন্ত্রী, এম পি বাধা দিয়েছেন আমাকে না দিতে। কিন্তু স্যার আমাকে দিয়েছেন কারো কথা শুনেন নি। যদিও পরে অনেক ধাপ পার হয়ে যেতে হয়েছিল। হোম ভিজিট এর পুরস্কার তখন পেয়ে গেছি। আজ থেকে কত বছর আগে। তাই ভিডিও করে এখন আর ছাড়ি না কারণ এটা নিয়মিত কাজ।
কিন্তু হায়! শেষ পর্যন্ত এত গোছানো স্কুল ছেড়েও চলে আসতে হল। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কারণে!!! সারাদিন স্কুলে এসে পড়ে থাকে। যা বলতেও পারি না কিছু,আবার সইতে ও পারি না, একধরনের ইভটিজিং, যা অসহনীয়। বিচার দিলাম UNO স্যার এর কাছে, স্যার ১০ ইউনিয়ন এর ১০জন চেয়ারম্যান দিয়ে প্রমাণসহ যাচাই করে দেখলেন আমি নির্দোষ, যেখানে আমার সহকর্মীরা ও উপস্থিত ছিলেন। এভাবেই বদলে গেছি ও বদলে দিয়েছি)
( উল্লেখ্য যে একদিন এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বলে ম্যাডাম রি ইউনিয়ন করতে চাই আপনাকে নিয়ে,কেউ ডাক্তার, কেউ SUST থেকে পড়াশোনা শেষ করেছে, আবার এক ছাত্রী মেসেঞ্জার এ লিখেছে প্রাইমারী স্কুলে ভাইভা দিতে গিয়ে মনে পড়ল ভাগ্যিস আপনার মত একজন শিক্ষক পেয়েছিলাম জীবনে)
(স্কুল নাম্বার ৩ আসবে)
All reactions:
Rumana Afroze, Shomsher Neowaz Mukta and 76 others
42
6
Like
Comment
Share
View more comments

স্কুল নাম্বার -(১) আমার স্কুল আমার অহংকার

 বিদ্যালয় এর নাম : মৌগাও বাগের কোনা সপ্রাবি। 

 সদর সুনামগঞ্জ ( বর্তমান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ). ইউনিয়ন"দরগাপাশা ,সুনামগঞ্জ। 

আমি মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রধান শিক্ষক পদে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করি। বাবা বলেছিল সদর উপজেলা থেকে দরখাস্ত করলে চাকরি না হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি মাঝারি মানের ছাত্র হয়েও আল্লাহর ইচ্ছার written, viva হয়ে গেল। তখন ডি,পি,ও ছিল শেখ আলী আফজাল স্যার,আর টি ই ও ছিল মালেকা বাহার পারভীন। উনি হয়ত আমাদের অধিদপ্তরে আছেন। এত বোকা ছিলাম পরিক্ষায় এসেছে SMS আমি ভেবেছিলাম অর সেলাইন। একজন সহকারী শিক্ষক না বলে দিলে আমি তাই লিখতাম। কাজেই এই হল আমি।
যাই হোক হয়ে গেল চাকুরী ডি পি ও স্যার বাবার পরিচিত বিধায়, মৌগাও স্কুলে নিয়োগ দিলেন, এটা নাকি যাতায়াতের সুবিধা। কিন্তু এত দূর কি বলব বাস, নৌকা, হাঁটা কোনটা বাদ ছিলো না, আবার ভাড়া ১০০ টাকা। জগ্ননাথপুর উপজেলার পাশে। গোপাল বাবু,আর ফারুক সাহেব ছিল আমার সহকর্মী। ফারুক সাহেব এর আমাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে কষ্ট হত, এত ছোট মেয়ে কি প্রধান শিক্ষক, যখন ইচ্ছে আসত আবার না বলেই চলে যেত, সিগারেট টানত।
যাক, এখন বলি স্কুলের চিত্র। প্রথম পা রেখেই দেখি স্কুলে টেবিল, চেয়ার, ঘন্টা কিছুই নেই। একে ত একটা টিনশেড ভবন, আবার এক কক্ষে ধানের গোদাম। মোট আছে তিন কক্ষ। বাথরুম খোলা নৌকা, টয়লেট ভর্তি হয়ে আছে গ্রামবাসীর মলে। মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।কিভাবে চাকুরী করব? সভাপতিকে ডাকলাম, সব কিছু দেখালাম, বললাম সমস্যা গুলো কিভাবে সমাধান করব,তিনি বললেন আমাদের জলমহলের অনেক টাকা আছে,আপনি চাইলে দিব।মসজিদ মাদ্রাসায় দিয়ে থাকি। আমি একটু সাহস পেলাম, যাই হোক হয়তো কিছুটা হলে ও বদলাতে পারব।
কমিটির সভাপতিকে নিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকার জিনিস,যেমন চেয়ার, সেক্রেটারিয়েট টেবিল, চা কাপ, সেল্ফ আরো যত প্রয়োজন নিজের হাতে কিনা শুরু করলাম। রুম ফিরিয়ে নিলাম, বাথরুম পরিস্কার করে, সব চকচকে।
এদিকে চলছে স্কুল ভালো ভাবে , তবে সদর হতে অনেক দূরে, বদলি না হলে চাকরি করি কি করে? দিন চলে যায় যেতে আর আসতে। একদিন বিলমিটিং এ দেখা হলো আমার পরের স্কুলের সহকর্মী পারভীন আক্তার এর সাথে। তিনি বললেন, আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই মাসে মারা গেছেন, তাই পোস্ট খালি। কিন্তু তিন পোস্টের স্কুল আসব কিভাবে? এদিকে waiting list থেকে নিয়োগ পেলেন হাবিব ভাই। উনাকে নিয়োগ সাপেক্ষে দিয়ে আমাকে ডিপিও স্যার বদলি করে দিলেন। উনি জয়েন করার পর আমি ২য় বিদ্যালয়ে যোগদান করি। যদিও ৮ মাস ওই বিদ্যালয় এ ছিলাম। কিন্তু বদলে দিয়েছিলাম স্কুলের সৌন্দর্য। যার জন্য তারা আজও মনে রেখেছে। ফারুক সাহেব কোন একদিন এসে সরি বলে গেছেন। যদিও আমি এসব মনে রাখিনি।
এভাবে বদলে গেছি ও বদলে দিয়েছি। ফেইসবুক ছিলো না, তাহলে লিখতে হতনা। কোনো কিছু পাব সেই আশা নিয়ে করিনি। কেউ ডকুমেন্টস তৈরি করবে না জানি, তাও করেছি মন থেকে। যা আজ ২২ বছরেও ধরে রেখেছি। ( ২য় স্কুল পর্ব ও লিখব)
All reactions:
আলাম নাশরাহ অংকুর, Saleha Mukta and 98 others

Ninja techniques

 কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর নিনজা টেকনিক। আমরা সবাই চাই, কেউ আমাদের শুনুক, বুঝুক। কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় যেন মনের মধ্যে এক বিচা...